দ্রোহ আর প্রেমের কবি হেলাল হাফিজ মারা গেছেন। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) শাহবাগের সুপার হোম হোস্টেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি। এখন তার মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রাখা হয়েছে।
তার মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। বিকেল পৌনে ৪টায় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, কবি হেলাল হাফিজ আর নেই। জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য হেলাল হাফিজ কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন।
‘আমাকে দুঃখের শ্লোক কে শোনাবে? কে দেখাবে আমাকে দুঃখের চিহ্ন কী এমন, দুঃখ তো আমার সেই জন্ম থেকে জীবনের, একমাত্র মৌলিক কাহিনি। আমার শৈশব বলে কিছু নেই, আমার কৈশোর বলে কিছু নেই, আছে শুধু বিষাদের গহীন বিস্তার।’ এমন বিরহ-সংলাপে সাজানো দুর্দান্ত একটা কাব্যময় জীবন কাটানো কবির বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
কবি হেলাল হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে গ্লুকোমায় আক্রান্ত ছিলেন। ২০২২ সালে কবি মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর বন্ধু ইসমত শিল্পীর বাসায় কিছুকাল কাটিয়ে ফের একাকী জীবনে ফিরে যান। চিরচেনা শাহবাগের সুপার হোম হোস্টেলেই শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত কাটিয়ে গেলেন হেলাল হাফিজ। কবি ডায়াবেটিস, কিডনি আর গ্লুকোমার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
প্রতিভাবান এই কবির জন্ম ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায়। তার প্রথম কবিতার বই ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত বইটির মুদ্রণ হয়েছে ৩৩ বারেরও বেশি। লেখালেখির পাশাপাশি হেলাল হাফিজ দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেন। ১৯৮৬ সালে প্রথম কবিতাগ্রন্থ ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশের পর জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে আসেন কবি।